Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সিটিজেন চার্টার

 

সিটিজেন চার্টার

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পটভূমিঃ
১৯৮০ সালে এদেশে সর্বপ্রথম সরকারী পর্যায়ে "গণশিক্ষা কর্মসূচী’’ শুরু হয়। ১৯৮২ সালে ঐ কর্মসূচী সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ১৯৮৭ সালে পুনরায় দেশের ২৭টি নির্বাচিত থানায় পাইলট কার্যক্রমহিসাবে গণশিক্ষা কর্মসুচী চালু করা হয়। এরপর ১৯৯১ সালে তিন বৎসর মেয়াদী "সমন্বিত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তার কার্যক্রম’’ (INFEP) প্রকল্প নামে পরীক্ষামূলকভাবে একটি প্রকল্প চালু করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কর্মসূচী সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য ১৯৯২ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত বিভাগকে ২০০৩ সালে মন্ত্রণালয়ে উন্নতিকরা হয়।

১৯৯১ সালে চালুকৃত"সমন্বিত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বিস্তার কার্যক্রম’’ প্রকল্প পরবর্তীতে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। এই সময়ে বিস্তৃত পরিসরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচীকে বেগবান করার লক্ষ্যে তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের অধীনে ১৯৯৫ সালে “উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর’’ (Directorate of Non-Formal Education) প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯৯০ সালের মার্চে থাইল্যান্ডের জমতিয়েনে অনুষ্ঠিত ২০০০ সালের মধ্যে "সবার জন্য শিক্ষা’’ শীর্ষক বিশ্ব সম্মেলনের পাশাপাশি একই বছরের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত "শিশু অধিকার’’ শীর্ষক বিশ্ব সম্নেলনের, ১৯৯৩ সালে দিল্লীতে "সবার জন্য শিক্ষা’’ (Education for All) শীর্ষক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত নয়টি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ যোগদান করে এবং সম্মেলনের ঘোষতায় নিরক্ষরতা দূরীকরণ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ সবের অনুপ্রেরণা ও অঙ্গীকার থেকে "সবার জন্য শিক্ষা’’ আন্দোলন বেগবান করার ক্ষেত্রে বিভিন্নপ্রকল্প বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে "উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর’’ গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। অধিদপ্তরের আওতায় ইনফেপ প্রকল্প, উপানুণ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্প-১,২,৩ ও ৪ এর মাধ্যমে ১৮৬.২৪ লক্ষ  শিক্ষার্থীকে স্বাক্ষরতা প্রদান করা হয়। ইতোমধ্যে মানব উন্নয়নের জন্য স্বাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-১ এর কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে ৯.৭১ লক্ষ শিক্ষার্থীকে ৯ মাস ব্যাপী স্বাক্ষরতা উত্তর ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

বর্তমান উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতাধীনে শহরের কর্মজীবী শিশুদের জন্য মৌলিক শিক্ষা প্রকল্প (২য় পর্যায়) এবং মানব উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত শিক্ষা প্রকল্প-২ নামে দুটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আরো কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে।

ইতোমধ্যে সরকারের পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ০১লা নভেম্বর ২০০৩ সাল হতে “উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর’’ অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সরকার কর্তৃক অধিদপ্তরের পরিবর্তে ১৭ এপ্রিল ২০০৫ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো গঠন করা হয়। সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের মধ্যে সমগ্র দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং নিরক্ষর জনবলকে জীবন ধর্মী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানব সম্পদে রূপান্তর করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ০২ জানুয়ারি ২০০৬ সালে “উপানুষ্ঠানিক শিক্ষানীতি’’ অনুমোদন করে এবং ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০০৬ তারিখে উহা সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হয়।  

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে এবং সরকারের নীতির সফল বাস্তবায়নের নিমিত্ত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সেবা জনগণের জন্য আরো অবারিত, সহজলভ্য এবং সুনিশ্চিত করাসহ প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন করা হয়েছে।  আশা করা  হচ্ছে এর মাধ্যমে ব্যুরোর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যুরো এর সার্ভিস সমূহ দেশের জনগণ এবং বিভিন্ন সরকারি  ও বেসরকারি  সংস্থা সহজে  পাবে যা এ দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সুফল বয়ে আনবে।
মহাপরিচালক
     উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সেবা দুইভাবে প্রদান করা হয়ঃ
ক) জনসাধারণের সাথে সম্পৃক্ত সেবা।
খ) ব্যুরোর অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সেবা।
১. এনজিও নির্বাচনঃ
* পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগ্রহী এনজিওদের নিকট হাত Expression of Interest (EOI) আহবান করা হয়।
* EOI বাছাই চুড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচিত  এনজিওদের  ১৫(পনের) দিনের মধ্যে Request for Proposed (RFP) দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

* নির্বাচিত এনজিওদের থেকে Request for Proposal (RSP) পাওয়ার পর তা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হয় এবং চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য Subvention Committee তে উপস্থাপন করা হয়।

* Subvention Committee কর্তৃক নির্বাচিত এনজিওদের তালিকা দাতা গোষ্ঠীর অনুমোদনের পর নির্ধারিত শর্তে ব্যুরোর সাথে অনুমোদিত এনজিওদের একটি দ্বিপাক্ষিকচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরিত চুক্তি মোতাবেক এনজিও কর্তৃক নির্ধারিত এলাকায় কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হয়।

* যে সকল এনজিও’র EOI, RFP নিরীক্ষা/যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের অযোগ্য হয় তাদেরকে অযোগ্যতার কারণ ১৫(পনের) দিনের মধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়।

* কর্মসূচী বাস্তবায়ন সংক্রান্তঅনিয়মের বিষয়ে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক/প্রকল্প পরিচালক/মহাপরিচালক বিএনএফই কে লিখিত ভাবে জানাতে পারেন।

* অভিযোগ প্রাপ্তির ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানকে অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থাদি সম্পর্কে জানানো হয়।

* কর্মসূচী বাস্তবায়নকারী সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মসূচী বাস্তবায়নে কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে Upazila Non-Formal Education Committee (UNFEC), District Non-Formal Education Committee (DNFEC), জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো/প্রকল্প পরিচালক/ মহাপরিচালক বিএনএফইকে লিখিতভাবে জানাতে পারেন।

* উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এনজিওকে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়।

* এনজিও নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন (PPR2008) অনুসরণ করা হয়।
০২. এনজিওদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি।
এনজিওর সাথে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী কর্মসূচী বাস্তবায়নে এনজিও'র অনিয়ম সংক্রান্তকোন অভিযোগ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়/প্রকল্প অফিস/অন্য কোন সরকারী দপ্তর/ জনসাধারণ হতে পাওয়া গেলে উহা তদন্ত পূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

নিম্নে শাস্তির ধরন উল্লেখ করা হলো।
* অভিযোগ মিথ্যা প্রমাতিতনিরীক্ষা/যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। উক্ত কমিটি নির্বাচিত ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রণয়ন করে তা Subbvention Sub-Committee  তে প্রেরণ করে।
* Subbvention Sub-Committee কর্তৃক উক্ত তালিকা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য Subbvention Sub-Committee তে উপস্থাপন করা হয়। Subbvention Sub-Committee কর্তৃক নির্বাচিত ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানের তালিকা ব্যুরোর নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গায়ে দেয়া হয় এবং বিষয়টি নির্বাচিত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে পত্রের মাধ্যমে ১৫ (পনের ) দিনের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়।
* Subbvention Sub-Committee কর্তৃক চূড়ান্ত নির্বাচিত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের তালিকা দাতা গোষ্ঠীর অনুমোদনের পর নির্ধারিত শর্তে ব্যুরোর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিকচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি মোতাবেক ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হয়।
* যে সকল ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের EOI, REP নিরীক্ষা/যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের অযোগ্য হয় তাদেরকে অযোগ্যতার কারণ উল্লেখপূর্বক১৫(পনের) দিনের মধ্যে পত্রের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।
* এনজিও নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন (PPR2008) অনুসরণ করা হয়।
০৪. উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোতে সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার/ ব্যক্তিদের দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ/ গবেষণা* প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচীতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ধারার মত অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোতেকেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কর্মএলাকা পর্যন্ত সঞ্চালন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে প্রথমে কোর ট্রেনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কোর ট্রেনার মাষ্টার ট্রেনারদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। মাষ্টার ট্রেনার সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। সুপারভাইজারগন সহায়ক/ সহায়িকাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
* উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অধীনে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রস্থলে মৌলিক শিক্ষা প্রদানের পর বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ব্যুরোতে প্রশিক্ষণ/গবেষণার সুযোগ রয়েছে। ব্যুরোর প্রধান দপ্তরে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী রয়েছে। লাইব্রেরীতে প্রায় ০৪(চার) হাজারের মত উপানুষ্ঠানিক বিষয়ের উপর বই ও ডকুমেন্ট রয়েছে। এছাড়া উক্ত লাইব্রেরীতে ব্যুরোর বিভিন্ন প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দেশী-বিদেশী সংস্থার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সেক্টরে বাস্তবায়িত কর্মসূচী সংক্রান্ত প্রতিবেদন, বিভিন্ন এনজিও'র প্রতিবেদন ও তথ্যাবলী, বিভিন্ন সরকারী/ বেসরকারী সংস্থার চলমান কর্মসূচীসংক্রান্ত তথ্য প্রভৃতি সংরক্ষিত রয়েছে।
* এ তথ্য ও প্রতিবেদন প্রশিক্ষণ/ গবেষনার কাজে ব্যবহার করার সুযোগ দেয়া হয়। এ বিষয়ে মহাপরিচালক, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বরাবরে আবেদন করতে হয়।
* আবেদনপত্রের  সাথে সরকারী/ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমতি পত্র দাখিল করতে হয়।
০৫. বিভিন্ন ব্যক্তি/ দপ্তরে/ সংস্থায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বিভিন্ন উপকরণ/ লানিং ম্যাটারিয়ালস্ সরবরাহ সংক্রান্তঃ* উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্নশিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করা হয়। পাঠ্যপুস্তক, সহায়ক পুস্তক, ফ্লিপচার্ট, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, পোষ্টার, ক্যালেন্ডার, স্টীকার, ব্রশিউয়্যার, গণশিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত ম্যাগাজিন।
* উপরোক্ত উপকরণ/লার্নিং ম্যাটারিয়ালস্ কারাগার, মসজিদ ভিত্তিকপাঠাগার, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত গণশিক্ষা কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে/ছাপা খরচে ব্যুরো থেকে সরবরাহ করা হয়।
* কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপকরণ পাওয়ার জন্য মহাপরিচালক বরাবরে আবেদন করতে হয়।
* আবেদন প্রাপ্তির ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে উল্লিখিত উপকরণ/ লার্নিং ম্যাটারিয়ালস্ বিনামূল্যে/ছাপা খরচে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) সরবরাহের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়।
০৬. সমাজিক উদ্বুদ্ধকরণঃউপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচী সফল বাস্তবায়নের জন্য সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ সভা করা হয়। সাক্ষরতা কর্মকান্ডে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের সংগঠিত করে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা পরিবেশ তৈরীর লক্ষ্যে সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ সভা করা হয়। এরই অংশ হিসাবে ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন করা হয়। মিনা দিবস, সাক্ষরতা সপ্তাহ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পালন করতে হয়। রাজধানী, জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংক্রান্তবিভিন্ন প্রচার-প্রচারতা, সভা, মিছিল, র্যালী, সেমিনার, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক ইত্যাদি কর্মকান্ড পরিচালিত হয় যাতে করে জনসাধারণ এ বিষয়ে সচেতন হয়।
* এ বিষয়ে কোন তথ্য বা সহযোগিতার প্রয়োজন হলে মহাপরিচালক, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো অথবা সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অফিসে যোগাযোগ করা যাবে।
০৭. উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতাধীন পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের অধীনে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন (NFE-RC)ঃ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতাধীন মানব  উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতা উত্তর ও অব্যাহত  শিক্ষা প্রকল্প-২ এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং দুই জন পরামর্শকের নেতৃত্বে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সার্বিক কার্যক্রমের তথ্য ও উপকরণ নিয়ে একটি শক্তিশালী গবেষণা  কেন্দ্র(NFE-RC) নির্মানের কাজ চলছে। অদূর ভবিষ্যতে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ের যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উক্ত গবেষনা কেন্দ্রে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বিষয়ে পড়াশুনা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন।
০৮. উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো-ম্যাপিং (NFE-MAPPING)ঃ* আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ইউনেস্কোর আর্থিক সহযোগিতায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে বাংলাদেশে নন-ফরমাল এডুকেশনের ম্যাপিং কার্যক্রমচলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে নন-ফরমাল সেক্টরে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি- উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর নিজস্ব Website স্থাপন করা হচেছ। অদূর ভবিষ্যতে এই Website এর মাধ্যমে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সার্বিক বিষয়ে সকলের জন্য উন্মুক্ত হবে।
১১.পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী  এনজিওদের অনুকূলে অর্থ ছাড়করণ ও প্রকল্প সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ঃমোট ০৪(চার)টি কিস্তিতে ভযড়লঁ (প্রতি কিস্তি ০৩ মাস অন্তর) প্রকল্পের অর্থ ছাড় করা হয়।
* সংশ্লিষ্ট এনজিওর সাথে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রথম কিস্তির অগ্রিম টাকা ছাড় করা হয়। ০৩(তিন) মাস পর ৪র্থ মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এনজিও প্রথম তিন মাসের খরচের বিবরণী (SOE) প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার এর নিকট দাখিল করে। প্রজেক্ট অফিসার (SOE) নিরীক্ষা/ যাচাইপূর্বক স্বাক্ষর করে ০৬(ছয়) দিনের মধ্যে সহকারী পরিচালক, জেউশিব্যুর নিকট দাখিল করে। সহকারী পরিচালক, জেউশিব্যু উক্ত খরচের বিবরণী নিরীক্ষা/যাচাই করে প্রতিস্বাক্ষরপূর্বক ০৫(পাচ) দিনের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক বরাবরে প্রেরণ করে। প্রকল্প পরিচালক ০৪(চার) দিনের মধ্যেখরচের বিবরণী পরীক্ষা করে সুপারিশসহ ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরণ করে। ব্যুরো হতে ০৩(তিন) দিনের মধ্যে উক্ত খরচের বিবরণী অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়।
* একই পদ্ধতিতে দ্বিতীয় কিস্তিসহ অন্যান্য কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়।
* প্রকল্প সংক্রান্ত অন্য যে কোন বিষয়ে মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য উন্মুক্ত।
১২. হার্ড - টু-রীচ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী এনজিওদের অনুকূলে অর্থ ছাড়করণ ও প্রকল্প সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ঃমোট ০৪(চার)টি কিস্তিতে (প্রতি কিস্তি ০৩ মাস অন্তর) প্রকল্পের অর্থ ছাড় করা হয়। তবে সাইনবোর্ড ও ফটো লেমিনেশন এর অর্থ এনজিওদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত কেন্দ্রের সংখ্যা অনুযায়ী অগ্রিম প্রদান করা হয়ঃ
* সংশ্লিষ্ট এনজিওর সাথে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী ইনসেপশন রিপোর্ট (কেন্দ্র চালু করার  নিশ্চয়তা) পাওয়ার ০১(এক) সপ্তাহের মধ্যে প্রথম কিস্তির অগ্রীম টাকা ছাড় করা হয়। ০৩(তিন) মাস পর ৪র্থ মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এনজিও প্রথম তিন মাসের খরচের বিবরণী (SOE) প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার এর নিকট দাখিল করে। প্রোগ্রাম অফিসার (SOE) যাচাইপূর্বক স্বাক্ষর করে ০৬(ছয়) দিনের মধ্যে সহকারী পরিচালক, জেউশিব্যুর নিকট দাখিল করে। সহকারী পরিচালক, জেউশিব্যু উক্ত খরচের বিবরণী যাচাই করে প্রতিস্বাক্ষর পূর্বক ০৫(পাঁচ) দিনের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক বরাবরে প্রেরণ করে। প্রকল্প পরিচালক ০৪(চার) দিনের মধ্যে খরচের বিবরণী পরীক্ষা করে সুপারিশসহ ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরণ করে। ব্যুরো হতে ০৩(তিন) দিনের মধ্যে উক্ত খরচের বিবরণী অনুমোদনের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
* একই পদ্ধতিতে দ্বিতীয় কিস্তিসহ অন্যান্য কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়।
* প্রকল্প সংক্রান্ত অন্য যে কোন বিষয়ে মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য উন্মুক্ত।
১৩. পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নঃ* উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যুরোর আওতাধীন চলমান প্রকল্পসমূহের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হয়। বর্তমানে চলমান হার্ড-টু-রীচ ও পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পে কর্মরত প্রোগ্রাম অফিসার, মনিটরিং অফিসার, প্রজেক্ট অফিসার ও সহকারী প্রজেক্ট অফিসারগণ প্রতিনিয়ত ব্যুরোর অনুমোদিত মনিটরিং ও মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচী মনিটরিং করে প্রতিবেদন ব্যুরো এবং প্রকল্প কার্যালয়ে প্রেরণ করে।  ব্যুরোরপ্রধানকার্যালয় ও জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচী পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্পের কর্মসূচী বাস্তবায়নকারী বেসরকারী সংস্থা সমূহ ও পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে ব্যুরোতে/প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।
* পিএলসিইএইচডি-২ প্রকল্পের কর্মসূচী পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য Monitoring Partner Agency (MOPA) নামে পেশাগতভাবে দক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
* আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা UNICEF, CIDA, NORAD, DFID, SDC, World Bank, ADB কর্তৃক তাদের নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার চলমান কর্মসূচী/প্রকল্পের উপর মনিটরিং ও মূল্যায়ন করা হয়।
* উপরোক্ত প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত ত্রুটি বিচ্যুতি অবিরতভাবে সংশোধন ও হালনাগাদ করে কর্মসূচীকে আরো গতিশীল করার ব্যবস্থা নেয়া হয়।
* কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কিছু জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক মহাপরিচালক/ সংশ্লিষ্টপ্রকল্প পরিচালক বরাবরে আবেদন করতে হয়। * আবেদন প্রাপ্তির ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেয়া হয়।

খ. ব্যুরোর অভ্যন্তরীত প্রশাসনিক সেবাঃ
১. পেনশন প্রাপ্তিঃ
(ক) ব্যুরোর কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ পেনশন প্রাপ্তির জন্য নির্ধারিত ফরমে নিম্নোক্ত কাগজপত্রসহ আবেদন দাখিল  করে।
(১) আবেদন পত্র ০৩(তিন) কপি (২) সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (৩) চাকুরির পূর্ণবিবরণী (৪) নিয়োগপত্র (৫) পদোন্নতিপত্র (৬) উন্নয়ন খাতের চাকরির ক্ষেত্রে রাজস্ববাজেটে স্থানান্তরের সকল আদেশের কপি (৭) চাকরির খতিয়ান বহি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) (৮) পাসর্পোট আকারের ছয়কপি সত্যায়িত ছবি (৯) নাগরিক সনদপত্র (১০) না দাবিপত্র (১১) শেষ বেতনের প্রত্যায়নপত্র (১২) হাতের পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ সন্বলিত প্রমাতপত্র (১৩) নমুনা স্বাক্ষর (১৪) ব্যাংক হিসাব নম্বর (১৫) চাকুরি স্থায়ীকরণ সংক্রান্তআদেশ (১৬) উত্তরাধিকারী/ ওয়ারিশ নিবার্চনের সনদ (১৭) অডিট আপত্তি ও বিভাগীয় মামলা নেই মর্মে লিখিত সনদ এবং (১৮) অবসর  প্রস্তুতিজনিত  ছুটি (এলপিআর) এর আদেশের কপ